গৌরব জি. পাথাং
বিউটি পার্লারের গারাে। মেয়েরা গৌরব জি. পাথাং
Tাকা শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে
তারা এ কাজ ভাল জানে, তাদের চেহারা সেখানে, অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে
আকর্ষণীয় এবং তারা বিশ্বস্ত। এই সরলতার বিউটি পার্লার। এই বিউটি পার্লারের
সুযােগ নিয়ে অনেক মালিকই গারাে বেশিরভাগ বিউটিশিয়ানই গারো মেয়ে।
মেয়েদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে অথচ গারাে জাতির কেউই তাদের খোঁজখবর
থাকেন। অনেক গারাে মেয়েই শহরে এসে নেয়ার প্রয়ােজন অনুভব করেননি বা প্রয়ােজন
ওদের চালাকি বুঝতে পারে না। ফলে বিপদে অনুভব করলেও কেউ এগিয়ে আসার সাহস
পা বাড়ায়। গারাে মেয়েরাও তাদের পাননি। তাই এতদিন তারা ছিলেন মাতৃহারা
প্রলােভনে প্রলােভিত হয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সন্তান, ঘর-বাড়িহারা উদ্বাস্তু। অবশেষে
সাথে সংসার করলে নানা সুযোগ-সুবিধা অনেক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর গারাে
পাবে বিবেচনা করে নিজের সমাজ, কৃষ্টি মেয়েদেও এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যেও হাত
সংস্কৃতি ছেড়ে চলে যায়। সেখানেই তাদের বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এলেন সালেসিয়ান
শুরু হয় অমানবিক কাজ। সারাদিন পরিশ্রম। সম্প্রদায়ের একজন সন্ন্যাসিনী। তার নাম
করেও নিজের জন্য টাকা রাখতে পারে না। সিস্টার জিতা রেমা, এসএসএমআই। তার
স্বামী বা মালিক তা নিয়ে নেয়। বিয়ের পরে স্থায়ী নিবাস ময়মনসিংহ জেলার ধােবাউড়া
ইচ্ছে করলেও তার প্রতিবাদ করতে পারে উপজেলার ভালুকাপাড়া ধর্মপল্লী। তিনি ছয়
না। কারণ তাদের সমাজ আলাদা, বছর ধরে অক্লান্তভাবে বিউটি পার্লারে গিয়ে
রীতিনীতিও আলাদা। দুঃখ-কষ্টের কথা বলার গারাে মেয়েদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং
মানুষ পায় না। গারো মেয়েরা এ পেশায় তাদের দুর্দিনে পাশে থেকে সাহায্যের হাত
আসার জন্য অনেক বিপদের সম্মুখীন হয়। বাড়িয়ে দিচ্ছেন, গত ১২ মে তারই সঙ্গে কথা
বাস্তবতা । একবার মুগদাপাড়ার কোন এক হয়েছিল আমার। কথা প্রসঙ্গে তার কাছেই
পার্লারে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে চেয়েছিলাম বিউটি পার্লারে গারাে
দেখেছিলাম ওই পার্লারে গারাে মেয়ে একাই মেয়েদের জীবন।
কাজ করে। সে মালিকের বাসায় থাকে। যখন কোন কাস্টমার আসে বিউটি পার্লারে আসার কারণ : গারাে মেয়েরা বিউটি পার্লারে কিংবা তখন সে পার্লারে কাজ করে আর বাকি সময় মালিকের সেবায় দিন ঢাকা শহরে কেউ শখের কারণে আসেনি। আসার পেছনে অনেক কাটায়। এমতাবস্থায় বিপদে পড়লে ও সাহায্য পাবার আশা নেই। দুঃখ-কষ্ট লুমিয়ে আছে। তবে কেউ প্রকাশ করতে চায় না। ভেতরের সিদ্ধেশ্বরীর ইনফ বিউটি পার্লারের রানী নামে এক মেয়ে কাজ করত। খবর কেউ জানে না। তারা আসে পরিবেশ ও পরিস্থিতির শিকার হয়ে। তাকে বাড়িতে যাবার জন্য অনুমতি দিত না। একবার সে দুটি পেয়ে কারণ তাদের জমিজমা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অনেক মেয়েই বিউটি বাড়িতে যাবার পর আর ফিরে আসেনি। তাতে সেই পার্লারের মালিক পার্লারে আসে অর্থৰৈতিক অসচ্ছলতা ও দরিদ্রতার কারণে। অন্য পার্লারে গিয়ে তার বােনকে হুমকি দিয়ে বলল, যদি তােমার বিউটিশিয়ানের মূল্য অন্যান্য পেশা থেকে একটু উন্নতমানের। তাই এ বােনকে ফিরে না আনো, তবে তােমাকে জেল খাটাব। মালিক রমনা পেশায় আসার জন্য তারা খুব আগ্রহী। এ পেশায় লেখাপড়া জানতে হয় থানায় গিয়ে চুরির মিথ্যা মামলা দিল। রমনা থানার সাব ইন্সপেক্টরও না। তাই লেখাপড়া না জানা মেয়েরা, কিংবা মেট্রিক পরীক্ষায় মালিকের অভিযােগে তার বােনকে গিয়ে হুমকি দিয়ে এল। মেয়েটি অকৃতকার্য হওয়া মেয়েরা এ পেশা অতি সহজে বেছে নিতে পারে। অসহায় হয়ে নকমান্দিতে এ সংবাদ জানাল। নকমান্দি হলাে গারােদের অনেক মেয়ে আসে কারও দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। কেউ আসে একটি অলাভজনক ও কল্যাণমূলক সংস্থা। কমান্দির অভিযােগে রমনা পারিবারিক সমস্যায় পড়ে। বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন নিয়ে কেউ কেউ এ থানার এএসপি তা তদন্ত করার উদ্যোগ নিলেন। তার উদ্যোগে এবং পেশায় আসে।
সহায়তায় সেই মেয়েটি মিথ্যা হয়রানি থেকে মুক্তি পেল। সাফল্য : গারাে মেয়েরা বিউটি পার্লারে কাজ করে সাফল্য এনে দিচ্ছে। ধানমন্ডির একটি পার্লারে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার মুনিকুড়া পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনে দিচ্ছে। মেয়েরা নিজের পায়ে গ্রামের তিনজন গারাে মেয়ে কাজ করত। একদিন সেখানে এক দাড়াতে শিখছে। অনেক মেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে। সিস্টার জিতার কাস্টমার এসে চেয়ারে ব্যাগ রেখে আরেকটি রুম সাজানাের উদ্দেশে। ভাষ্যমতে ঢাকা শহরে গারাে মেয়েদের নিজস্ব ২৬টি বিউটি পার্লার চলে গেল। এসে দেখে চেয়ারে ব্যাগ নেই। তারপর সে কাস্টমার ওই আছে। এখানে গারাে মেয়েরা অর্থ উপার্জনের সুযােগ পাচ্ছে। এ তিনজন মেয়ের বিরুপে ঢুরির মিথ্যা মামলা দিয়ে দিল। মেয়েদের পেশায় থেকে ভাইবােন ও সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছে। বিউটি থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর করল এবং রিমান্ডে নিল । এখনও সেই পার্লারে দরিদ্র পরিবারের জন্য অনেক সহায়ক।
মামলা চলছে। নকমান্দি এবং সিস্টার জিতা এখন সহায়ক ভূমিকা চ্যালেঞ্জসমূহ : বিউটি পার্লার গারাে মেয়েদের অর্থনৈতিক দিক ।
পালন করছেন। উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে ঠিকই; কিন্তু তাদের মানসিক, দৃষ্টিভঙ্গি : অনেকের কাছেই বিউটি পার্লার মানে আতঙ্কের চাকরি, আধ্যাত্মিক, সামাজিক, নৈতিক দিকগুলাে অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে
মানসম্মান হারানাের চাকরি। অনেকেই বিউটি পার্লারের নাম শুনেই যাচ্ছে। এখানে তারা বলির মতাে জীবন কাটায়। মানুষের সলে,
মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করে। কারণ বিউটি পার্লার গারাে জাতির আত্বীয়-স্বজনদের সঙ্গেও দেখা সাক্ষাৎ করতে পারে না। তাদের ইচ্ছা।
জন্য আশীর্বাদ ও অভিশাপ উভয়ই নিয়ে এসেছে। একদিন নার্সিং পেশা। বিসর্জন দিয়ে সেই সকাল থেকে কাজ শুরু করতে হয় এবং নির্দিষ্ট।
যেমন অনেকের কাছে অবহেলার ছিল, তেমনি বিউটিশিয়ান হওয়ার সময়ে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। তাদের নির্ধারিত কাজের সময়
পেশাও অনেকের কাছে অবহেলার ছিল। আজ সময় এসেছে আমাদের হলো সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। এখানে তারা
দৃষ্টিভঙ্গি ও মনমানসিকতা পরিবর্তন করার। সকল কাজকে মূল্য ও মেশিনের মতো অবিরাম কাজ করে। কাস্টমার থাকলে বিশামের সময়। পায় না। সাপ্তাহিক ছুটির কোন ব্যবস্থা থাকে না। রবিবারে ধর্মীয়
মর্যাদা দেওয়ার।
আমাদের কর্তব্য : বিউটি পার্লারে যারা কাজ করে, তাদের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে যাবার ইচ্ছে থাকলেও ছুটির অভাবে যেতে পারে না। কারণ।
মেয়েই নাবালিকা। বেশির ভাগ মেয়েই ১২ থেকে ১৫ বছরের। মালিকের মুনাফা লাভ হবে না। অনেক মেয়ের কাছে শুনেছি যারা গত কয়েক বছর ধরে বড়দিনে ছুটি পায়নি এবং বাড়িতেও যেতে পারেনি।
অনেকেই তাদের ভালমন্দ বুঝতে পারে না। এ বয়সে সঠিক সিদ্ধান্তও তবে কিছু কিছু বিউটি পার্লার সেসব সুবিধা দেয়। পার্সোনা বিউটি।
নিতে পারে না। কৌতুহলবশত কিং আবেগপ্রবণ হয়ে ভালবাসতে পার্লার সুযােগ-সুবিধা প্রদানের দিক দিয়ে এগিয়ে। বার্ষিক বনভােজন,
গিয়ে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই তাদের সৎ পথে থাকার আউটিং, প্রার্থনা করা ও দেখা-সাক্ষাত করারও সুব্যবস্থা আছে। কিছু ।
| জন্য সর্বদা উৎসাহিত করতে হবে, দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিছু বিউটি পার্লারের বাসস্থান, পরিবেশ, সুযােগ-সুবিধা, কাজের ধরন ।
পরিবারের উচিত তাদের সঙ্গে সর্বদা যােগাযােগ রাখা। যারা না। অনেক সময়ই অমানবিক। যে বিউটি পার্লারে মেয়েদের থাকার ব্যবস্থা ।
কারণে পথভ্রষ্ট হয়েছে, যারা দূরে চলে গেছে তাদের গ্রহণ করা, আছে সেখানে পরিবেশ ভাল নয় এবং নিরাপত্তার অভাব সবচেয়ে কম।
পরিবারে ঠাই দেওয়া। যারা বিপদগ্রস্ত তাদের সহায়তা করা। তাদের ছােট জায়গায় কষ্ট করে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। তবে নিঃসন্দেহে।
সংগঠিত করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে এবং সংগঠন, সমিতি এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। এ ব্যবসায় কর্মী সহজলভ্য এবং গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিউটি পার্লারের মালিকদের উচিত তাদের বেতনও দিতে হয়, আয়ও পরিশ্রমের তুলনায় অনেক কম। এ কাজে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, মাঝে মাঝে ছুটি দেওয়া, চিত্ত-বিনােদনের। গারাে নারীদেরই চোখে পড়ে বেশি। হয়ত এমন কোন বিউটি পার্লার ব্যবস্থা করা এবং সুযােগ-সুবিধা প্রদান করা। গারাে মেয়েদেরও উচিত নেই, যেখানে গারাে মেয়ে একজনও নেই। প্রায় সব বিউটি পার্লারই তাদের মানসম্মান বজায় রেখে চলা এবং বুদ্ধির ব্যবহার করা। নকমান্দি নির্ভর করে গারাে মেয়েদের ওপর। কারণ গারাে মেয়েরা সহজ-সরল, ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।
Comments
Post a Comment